নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির পুলিশ পাহাড়ায় রাজধানী ঢাকা থেকে ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে নোয়াখালীতে নেওয়ার সময় পলায়নের ঘটনায় কর্তব্যরত ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের অভিযানে ঢাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন- আসমিদের প্রহরায় নিয়োজিত এসআই ফারুক হোসেন, কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস ও নারী কনস্টেবল আসমা আক্তার।

এছাড়া পুলিশ পরিদর্শক জিসান আহাম্মদের বিরুদ্দে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসকে অবহিত করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- সোনাইমুড়ী থানার বাট্টা গ্রামের মুজামিয়া ব্যাপারী বাড়ির মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল (২৪) ও একই থানার বগাদিয়া গ্রামের সওদাগর বাড়ির মৃত মো. আবদুল লতিফের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (২৮)। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম পিপিএম জানান, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার ধর্ষণ মামলার আসামি মো. জুয়েল ও মো. দেলোয়ার হোসেনকে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে সিআইডি, ঢাকা হতে ডিএনএ পরীক্ষা শেষে পুনরায় সোনাইমুড়ী থানায় নেওয়া হচ্ছিল।

পথে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা এলাকার হাইওয়ে রোডের পাশে আল মদিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে খাওয়ার বিরতি নেওয়া হয়। খাওয়া শেষে বিকাল সাড়ে ৩টার সময় আসামিরা হোটেলের টয়লেটে যাবার কথা বলে সেখান থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান। পুলিশি প্রহরায় থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কর্তব্যরত এসআই ফারুক হোসেন, কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস ও নারী কনস্টেবল আসমা আক্তারদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পুলিশ পরিদর্শক জিসান আহাম্মদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, উক্ত ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসাকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, পুলিশি হেফাজত হতে পালিয়ে যাওয়া আসামি মো. দেলোয়ার হোসেনকে ডিএমপি ঢাকার কামরাঙ্গির চর থানা পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই আসামি বর্তমানে কামরাঙ্গির চর থানা হেফাজতে আছে। এছাড়া অপর আসামি মো. জুয়েলকে ধরার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ জেলার গাজারিয়া থানা একটি মামলা দায়ের করা (যার ধারা-২২৪ পেনাল কোড) হয়েছে।